দেশের যেসব স্থলবন্দর দিয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে পণ্য আমদানি-রফতানি হয় না কিংবা লোকসানে চলছে, সেগুলো বন্ধ করে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন নৌ-পরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন। দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর পরিদর্শনে গিয়ে গতকাল তিনি এ কথা বলেন।
নৌ-পরিবহন উপদেষ্টা বলেন, ‘দেশের ২৪টি স্থলবন্দরের মধ্যে আটটি বন্ধ করতে চেয়েছিলাম। এরই মধ্যে চারটি বন্ধ করতে পেরেছি। বাকি ২০টি স্থলবন্দরের মধ্যে ১২-১৪টির বেশি কার্যকর নেই।’
জানা যায়, গত মার্চে দেশের চারটি স্থলবন্দর পুরোপুরি বন্ধ রাখার সুপারিশ করে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়। এগুলো হলো নীলফামারীর চিলাহাটি, চুয়াডাঙ্গার দৌলতগঞ্জ, রাঙ্গামাটির তেগামুখ ও হবিগঞ্জের বাল্লা।
এর মধ্যে চিলাহাটি, দৌলতগঞ্জ ও তেগামুখে কোনো অবকাঠামো নেই বলে তা বন্ধের সুপারিশ করা হয়। আর হবিগঞ্জের বাল্লা স্থলবন্দরের অবকাঠামো নির্মাণ হলেও ভারতীয় অংশ অবকাঠামো ও সড়ক না থাকায় এ স্থলবন্দরের পরিচালনা কার্যক্রম স্থগিত করার কথা বলা হয়।
এর আগে গত বছরের নভেম্বরে দেশের আটটি স্থলবন্দরের উপযোগিতা দেখতে একটি কমিটি গঠন করে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়। এ কমিটি আরো চারটি স্থলবন্দরকে শর্তসাপেক্ষে চালু রাখার সুপারিশ করে। যেমন ময়মনসিংহের গোবরাকুড়া-কড়ইতলী স্থলবন্দরের দুটি স্থানের পরিবর্তে একটি স্থানে স্থলবন্দরের কার্যক্রম চালু রাখার বিষয়ে মতামত দেয়। শেরপুরের নাকুগাঁও স্থলবন্দরের আয়-ব্যয় বিবেচনা করে এর কার্যক্রম গতিশীল করার কথা বলা হয়।
এছাড়া জামালপুরের ধানুয়া কামালপুর স্থলবন্দরের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ সম্পন্ন হওয়ায় বিনিয়োগ বিবেচনায় নিয়ে ন্যূনতম জনবল দিয়ে কার্যক্রম চালু রাখার সুপারিশ করা হয়। আর দিনাজপুরের বিরল স্থলবন্দরে বিদ্যমান ব্যবস্থায় রেলপথে আমদানি-রফতানি চালু রাখার কথা বলা হয়।
এদিকে গতকাল হিলি স্থলবন্দর পরিদর্শনকালে নৌ-পরিবহন উপদেষ্টা প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘এসব বন্দরকে আধুনিকায়ন করে কী হবে, এক পয়সা যেখানে আয় নেই। সারা বছর যেখানে ১০-৩০ হাজার টাকা আয় হয়, অথচ ব্যয় হচ্ছে এর চেয়ে অনেক বেশি।’
তবে যেসব বন্দর কার্যকরী ও বড় সেগুলোকে আধুনিকায়ন করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘কিছু নদীবন্দর রয়েছে, এগুলোকে পরিচালনার জন্য বেসরকারি খাতে দেয়ার চেষ্টা করছি।’
এর আগে হিলি স্থলবন্দরের সভাকক্ষে কাস্টমস, বন্দর কর্তৃপক্ষ ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন নৌ-পরিবহন উপদেষ্টা। এ সময় ব্যবসায়ীরা বন্দরের রাস্তাঘাট সংস্কার, ওয়ারহাউজ নির্মাণ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ অনিয়ম ও পণ্য আমদানিতে যেসব জটিলতা রয়েছে, সেগুলো তুলে ধরে দ্রুত সমাধানের জন্য অনুরোধ জানান।
উপদেষ্টা হিলি স্থলবন্দর ও কাস্টমস বিভাগের বিভিন্ন অবকাঠামো ঘুরে দেখেন এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান, রংপুর কাস্টমসের বিভাগীয় কমিশনার অরুণ কুমার বিশ্বাস, হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রফতানিকারক গ্রুপের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক এবং হিলি কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফেরদৌস রহমান ও সাধারণ সম্পাদক শাহিনুর ইসলামসহ সংশ্লিষ্টরা।